‘ঘরপোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ভয় পায়’—এ প্রবাদের একটি অর্থ হচ্ছে, একবার বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিরা তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে এমনকি ভালো জিনিস দেখেও আতঙ্কিত হয়। এ প্রবাদ সবার জানা, কিন্তু অনেক খুঁজে দেখার চেষ্টা করলাম, ঘরপোড়া গরুরা যখন আসলেই ঘরের কোনায় আগুন দেখতে পায়, তখন কী করে—এ বিষয়ে কোনো প্রবাদ আছে কি না। এ বিষয়ে প্রবাদ না থাকলেও সাধারণ জ্ঞান বলে, ভুক্তভোগীদের কেবল ভাগ্যের ওপর ভরসা করে বসে থাকার সুযোগ নেই। তাদের কাজ হচ্ছে তখনই শোরগোল তোলা এবং আগুন নেভানোর জন্য সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করা।
প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন ২০২৬ দেখে এ প্রবাদের কথা মনে হলো। সাইবার সুরক্ষা আইন তৈরি করা হয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকারের সময়। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার এ আইন সংসদে অনুমোদন দিয়েছিল, এরপর এক দফা সংশোধন হয়েছে। এখন আরেক দফা সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই সংশোধনীতে যেসব বিষয় প্রস্তাব করা হয়েছে, তা দেখে একই ধরনের আইন নিয়ে সাড়ে চার বছর ধরে গবেষণার ফলাফল ও অভিজ্ঞতার কথা মনে হলো। সেই অভিজ্ঞতার কারণেই আইনের এই সংশোধনীর ফল ভবিষ্যতে কী দাঁড়াতে পারে, সে আশঙ্কার কথা বলার তাগিদ অনুভব করলাম।
২০০৬ সালে ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি অ্যাক্ট (আইসিটি) করা হয়েছিল সাইবার স্পেসে নাগরিকদের নিরাপত্তা দেওয়ার কথা বলে। ২০১৩ সালে শেখ হাসিনা সরকার সেই আইনে ‘সংশোধন’ আনে। সংশোধন না বলে বলা উচিত আরও কঠোর করা হলো। আইনের ৫৭ ধারায় এমন সব বিষয় যুক্ত হলো, যাতে স্পষ্ট, এ আইনের লক্ষ্য হচ্ছে ভিন্নমত দমন। নাগরিকদের হেনস্তা করার এ ব্যবস্থা তৈরি হয়েছিল ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগেভাগেই।
বাংলাদেশে রাজনীতি ও গণমাধ্যম বিষয়ে আগ্রহের কারণে সে সময় এ আইনের দিকে নজর রাখার চেষ্টা করেছি। এ আইন নিয়ে দেশে-বিদেশে সমালোচনায় সরকার কর্ণপাত করেনি। দেখা গেল, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ আইনে মামলার সংখ্যা বাড়ছেই। ২০১২ থেকে ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত আইসিটি আইনে ১ হাজার ৪১৭টি মামলা হয়েছিল; এর ৬৫ শতাংশ হয়েছিল ৫৭ ধারায়।
২০১৮ সালে নতুন আইন প্রণয়ন করা হলো, ‘ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট’ (ডিএসএ)। নতুন আইনের খসড়ায় যা দেখা যায়, তাতে অবস্থা আগের চেয়ে খারাপই হবে বোঝা গেল। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে মন্ত্রিসভায় এ আইন অনুমোদিত হলো। সেই আইনে আইসিটি অ্যাক্টের ভয়াবহ দিকগুলোই শুধু থাকল তা নয়, এমন সব বিষয় যুক্ত হলো, যেগুলো ১৯২৩ সালের দাপ্তরিক গোপনীয়তা আইনের ৩ ধারায় গুপ্তচরবৃত্তির অপরাধের শাস্তির বিধানের সমতুল্য।
আইসিটি অ্যাক্টের ৫৭ ধারাকে ভেঙে ভেঙে ডিএসএর চারটি ধারায় যুক্ত করে দেওয়া হলো। সরকারের সমর্থকেরা ছাড়া সবাই এ আইনের নয়টি ধারা সম্পর্কে আপত্তি উত্থাপন করেছিল। এগুলো হচ্ছে ৮, ২১, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২, ৪৩ ও ৫৩। এই ধারাগুলো ছিল অস্পষ্ট এবং অনেকগুলো সঠিকভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়নি। এই আইনের ৪৩ ধারায় পুলিশের পরোয়ানা বা ওয়ারেন্ট ছাড়াই তল্লাশি, জব্দ এবং কোনো ব্যক্তিকে আটক বা গ্রেপ্তার করার সরাসরি ক্ষমতা ছিল। এ আইনের ২০টি বিধানের ১৪টি ছিল জামিন–অযোগ্য।
২০১৮ সালের জানুয়ারিতে মন্ত্রিসভায় ডিএসএ অনুমোদনের পরে আমার আশঙ্কার কথা লিখেছিলাম, ‘অনুমোদিত আইনে মামলার সংখ্যা কত বাড়বে, তা কি আমরা অনুমান করতে পারছি?’ (প্রথম আলো, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮)। এ লেখা প্রকাশের পরে তৎকালীন সরকারের সমর্থকেরা এই বলে সমালোচনা করেছিল যে আমি অতিরঞ্জনের চেষ্টা করছি।
২০১৮ সালে ডিএসএ চালু হলো আরেক নির্বাচনের আগে। তত দিনে স্বৈরতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে এবং মতপ্রকাশকে অপরাধে পরিণত করা হয়েছে। পরের দুই বছর ব্যক্তিগত আগ্রহে যত দূর সম্ভব এই আইনের ব্যবহারের দিকে নজর রাখার চেষ্টা করেছিলাম, ২০২০ সালে কোভিডের সূচনায় লক্ষ করলাম ডিএসএর ব্যবহার প্রতিদিনের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। সে প্রেক্ষাপটে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) পৃষ্ঠপোষকতায় একটি গবেষণা প্রকল্পের সূচনা করি।
২০২৪ সালে সরকার কর্তৃক ডিএসএর পরিবর্তে সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট প্রণয়ন পর্যন্ত আমি এবং আমার গবেষণা সহকারীরা প্রতিদিন এ আইনে আটকের ঘটনাগুলোর বিস্তারিত সংগ্রহের চেষ্টা করেছি। সেগুলো একটি সিজিএসের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ট্র্যাকার তৈরি করে সবার অবগতির জন্য প্রকাশ করেছি। আমরা ২০১৮ ও ২০১৯ সালের ঘটনাগুলোও পরে এ গবেষণা প্রকল্পে যুক্ত করি।
সাড়ে চার বছর ধরে ডিএসএর তথ্য সংগ্রহ করার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, আইনি বিধান করে দেশে ‘ভয়ের সংস্কৃতি’ তৈরির আর কোনো দ্বিতীয় উদাহরণ নেই। একই সময়ে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনাবলি বিস্তার লাভ করেছিল, গুম হয়ে উঠেছিল দৈনন্দিন ঘটনা; নাগরিকদের সুরক্ষার বদলে মানবাধিকার কমিশন বিভিন্নভাবে সরকারের নিপীড়নমূলক কাজের বৈধতা দিয়েছে।
আমাদের গবেষণায় ২০১৮ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাঁচ বছরে ১ হাজার ৪৩৬টি মামলার বিস্তারিত সংগ্রহ করতে পেরেছিলাম, তাতে ৪ হাজার ৫২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ এবং শিক্ষার্থীরা ছিলেন তার সবচেয়ে বড় শিকার। আমরা ৮৫৯টি মামলার অভিযোগকারীর পরিচয় শনাক্ত করতে পেরেছিলাম। তাতে দেখতে পেয়েছিলাম ২৬৩টি মামলার বাদী হচ্ছে সরকারের বিভিন্ন বাহিনী, আর ৬০০ জন বাদী হচ্ছেন সাধারণ নাগরিক। তাঁদের মধ্যে যাঁদের দলীয় পরিচয় পাওয়া গিয়েছিল, তাতে দেখা যায় ৭৭ শতাংশের বেশি ছিল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী। সহজ করে বললে ভিন্নমত দমনে ক্ষমতাসীনদের পছন্দের হাতিয়ার হয়ে উঠেছিল ডিএসএ।
সরকারি হিসাবেই ডিএসএর আওতায় ৭ হাজারের বেশি মামলা হয়েছিল। এ আইন এমনভাবেই তৈরি হয়েছিল যে একজনকে দিয়ে মামলা করিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে তাঁকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। পুলিশ শুধু সন্দেহের বশে আটক করেছে এবং আদালত এই অভিযুক্তদের জামিন নাকচ করেছেন। ছয়বার জামিন নাকচ হওয়ার পর জেলে লেখক মুশতাক আহমদ মৃত্যুবরণ করেছেন।
সহজ করে বললে, ভিন্নমত দমনে ক্ষমতাসীনদের পছন্দের হাতিয়ার হয়ে উঠেছিল ডিএসএ। এ আইন এমনভাবেই তৈরি হয়েছিল যে একজনকে দিয়ে মামলা করিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে তাঁকে আটক করা সম্ভব হয়েছে; পুলিশ কেবল সন্দেহের বশে আটক করেছে এবং আদালত এই অভিযুক্ত ব্যক্তিদের জামিন নাকচ করেছেন। ছয়বার জামিন নাকচ হওয়ার পর জেলে লেখক মুশতাক আহমদ মৃত্যুবরণ করেছেন।
এ তথ্যগুলোর কথা স্মরণ হচ্ছে এই কারণে যে প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন ২০২৬-এর মধ্যে ডিএসএর ছায়া স্পষ্ট। অন্তর্বর্তী সরকার ডিএসএর পরবর্তী সংস্করণ সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল করে দিয়ে সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬ প্রণয়ন করে। এখন তা সংশোধনের নামে যেসব প্রস্তাব করা হয়েছে, সেগুলো আবারও অবারিত নজরদারির পথ উন্মুক্ত করবে, মানুষের মতপ্রকাশের ক্ষেত্রকে সীমিত করবে এবং গণমাধ্যমগুলো ‘সেলফ–সেন্সরশিপে’ বাধ্য হবে। দু–একটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি বোঝা যাবে।
বিদ্যমান সাইবার সুরক্ষা আইনে জাতীয় নিরাপত্তা, অখণ্ডতা, জনশৃঙ্খলা, উসকানি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ক্ষুণ্ন করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থার বিধান আছে, কিন্তু সংশোধনীর খসড়ায় একটি নতুন উপধারা—ধারা ২৬(ক) যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। সাইবার স্পেসে যেকোনো ধরনের ‘গুজব’, ‘অপতথ্য’, ‘ভুল তথ্য’ কিংবা ‘মানহানি’মূলক তথ্য প্রকাশ বা প্রচার করার জন্য এই উপধারায় শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এগুলোর কোনো সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা নেই। ফলে এগুলো কে কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন, তার ওপর নির্ভর করবে কে শাস্তি পাবে। তারপরও ৮(২)-তে বলা হয়েছে, এ জন্য প্রমাণাদি দরকার হবে না, কেবল সন্দেহের ভিত্তিতেই কনটেন্ট ব্লক করা যাবে, অপসারণ করা যাবে। এতে এমনকি ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের জন্য ‘মানহানিকর’ বা অবমাননাকর তথ্যও যুক্ত করা হয়েছে।
স্মরণ করা দরকার, ডিএসএর মামলাগুলোর অধিকাংশই হয়েছিল ব্যক্তিপর্যায়ে, নেতাদের অনুসারীরা মামলা করেছেন। সংশোধিত আইনের ৪০ ধারা অনুযায়ী সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি, তার লিখিত প্রতিনিধি বা পুলিশ মামলা করতে পারে। কিন্তু আইনে ‘সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি’ বলতে কাকে বোঝাবে, তার কোনো সাধারণ সংজ্ঞা নেই।
বিপদের আশঙ্কা আরও আছে। এ আইনে ‘ব্যক্তি’ বলতে শুধু একজন মানুষ বোঝায় না। ধারা ২(১)(প)-তে প্রতিষ্ঠান, কোম্পানি, অংশীদারি কারবার ও ফার্মও এর মধ্যে আছে। তাই কোনো প্রতিষ্ঠানের মানহানিও ধারা ২৫-এর আওতায় পড়বে। নতুন ধারা ২৯(৩) অনুযায়ী কোনো প্রতিষ্ঠান দোষী হলে আদালত তার নিবন্ধন, লাইসেন্স বা কার্যক্রম স্থগিত, বাতিল বা নিষিদ্ধ করতে পারবেন। এর ব্যাখ্যায় ট্রাস্ট, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা এবং অন্য যেকোনো আইনগত সত্তাও আছে। অর্থাৎ একদিকে হাসপাতাল বা কোম্পানি তার সমালোচকের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবে, অন্যদিকে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান হলে তার লাইসেন্সও চলে যেতে পারে।
বর্তমান আইনের ২৫ ধারায় রয়েছে মূলত অনলাইনে যৌন হয়রানি, ব্ল্যাকমেল, পর্নোগ্রাফি এবং শিশু যৌন নির্যাতন-সংক্রান্ত উপাদান। সংশোধনীতে এ ধারাকে বিস্তৃত করে মানহানি, অপমান, হেয়প্রতিপন্ন করা ও বুলিংকেও এর আওতায় আনা হয়েছে। বলা হচ্ছে, কাউকে অসম্মানজনকভাবে উপস্থাপন করতে পারে—এমন বক্তব্য, প্রকাশনা ও প্রতিবেদনও এর আওতায় থাকবে। মানহানি, হেয়প্রতিপন্ন করা এবং বুলিংয়ের ঢালাও ব্যাখ্যা আছে; কিন্তু আইনে ঢালাও ব্যাখ্যা থাকলে, অস্পষ্টতা থাকলে কী হয়, তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ হচ্ছে ডিএসএ।
সংশোধনীর ৩৩ ও ৩৪ ধারা যেভাবে কর্তৃপক্ষকে কম্পিউটার, ডিজিটাল ডিভাইস ও ডেটা তল্লাশি ও জব্দ করা ব্যবস্থা করে দিয়েছে, তাতে যেকোনো মানুষের কথা সংরক্ষণ করাই এখন বিপদ ঘটাতে পারে। কর্তৃপক্ষ কে, সেটাও কি স্পষ্ট? বর্তমান ধারা ৮(২) অনুযায়ী কনটেন্ট সরানোর উদ্যোগ নিতে পারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিটিআরসির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিতে হয়। সংশোধনীতে এর সঙ্গে যোগ হচ্ছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সরকার থেকে ক্ষমতা পাওয়া অন্য যেকোনো সংস্থা বা বাহিনী। যেকোনো সংস্থার হিসাব তো অনিশ্চিত, ভবিষ্যতে এর দায়িত্ব কাকে দেওয়া হবে?
প্রস্তাবিত সংশোধনীতে বিচারের ভার কার্যত নির্বাহী বিভাগের ওপরেই ন্যস্ত হয়েছে; বলা হয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত বিচার করতে পারবেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা, যাঁরা নির্বাহী বিভাগের অংশ। নির্বাহী বিভাগের ভূমিকা কার্যত ক্ষমতাসীন দলের অনুকূলেই হয়, এটা অস্বীকারের উপায় নেই। তার সঙ্গে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের দিকে তাকালেও বোঝা যায় ক্ষমতাসীন দলের কতটা প্রভাব থাকবে। ২৮ সদস্যের কমিটিতে থাকবেন ‘তথ্যপ্রযুক্তি বা মানবাধিকারবিষয়ক’ দুজন বিশেষজ্ঞ, যাঁরা সরকার কর্তৃক মনোনীত হবেন।
এই সংশোধনীগুলো যদি এভাবেই আইনে পরিণত হয়, তবে এ আইন ডিএসএর মতোই ভয়াবহ রূপ নিলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। অথচ ২০২৪ সালের জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের অঙ্গীকার ছিল আইন ও প্রতিষ্ঠানের সংস্কারের মধ্য দিয়ে নাগরিকের অধিকার সম্প্রসারণ করা; জুলাই জাতীয় সনদের ৯ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছিল, ‘নাগরিকের মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, সেগুলোর সুরক্ষা এবং বাস্তবায়নে সাংবিধানিক ও আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।’ বিএনপি এবং ক্ষমতায় অন্য যেসব দলের প্রতিনিধিরা আছেন, তাঁরা সবাই এ বিষয়ে একমত হয়েছিলেন। কিন্তু এই সংশোধনী প্রস্তাব তার বিপরীতে যাত্রার উদাহরণ।
-
আলী রীয়াজ সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি ও সরকার বিভাগের ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর।
Courtesy: https://www.prothomalo.com