
“মাতৃভূমি
বাংলাদেশ আজ এক যুগসন্ধিক্ষণে। ত্রিশ লক্ষ শহীদের আত্মদানের বিনিময়ে অর্জিত বাঙালি
জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন প্রিয় স্বাধীনতা। আর এই স্বাধীনতার মহানায়ক সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ
বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের স্বাধীনতা
সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানের সুমহান গৌরবের প্রতীক। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে যুদ্ধবিধ্বস্ত
দেশ পুনর্গঠনের দুরূহ কর্তব্য সম্পাদন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ
গড়ে তোলার সূচনা হয়। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে
সপরিবারে হত্যার ভেতর দিয়ে বাংলাদেশ আবার সামরিক শাসন ও স্বৈরতন্ত্রের ধারায় ফিরে যায়।
একই খুনিরা ৩ নভেম্বর জেলখানায় হত্যা করে চার জাতীয় নেতাকে। এভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা,
স্বাধীনতার অঙ্গীকার ও একটি অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক শোষণমুক্ত সুখী সুন্দর বাংলাদেশ
গড়ে তোলার সকল সম্ভাবনা নস্যাৎ করে দেয় সামরিক সরকার ও সামরিক ছাউনিতে তাদের সৃষ্ট
দলসমূহ। সংবিধান কর্তন, স্বাধীনতা-বিরোধী যুদ্ধাপরাধী, জঙ্গিবাদে বিশ্বাসী জামায়াতে
ইসলামী প্রভৃতি সাম্প্রদায়িক শক্তিকে পুনর্বাসিত করা, রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়ন, সন্ত্রাস,
কালোটাকা ও পেশিশক্তির পৃষ্ঠপোষকতার পাশাপাশি গড়ে তোলা হয় লুটপাটের অর্থনীতি। কিন্তু
দেশবাসী তা মেনে নেয়নি। জনগণের বীরত্বপূর্ণ সংগ্রাম ও অগণিত শহীদের আত্মদানের বিনিময়ে
১৯৯৬ সালের ১২ জুনের নির্বাচনে দীর্ঘ ২১ বছর পর বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে।”