
“বাংলাদেশ
আওয়ামী লীগ বাঙালি জাতির স্বাধীনতা ও আত্মপরিচয় প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের সুমহান ঐতিহ্যের
প্রতীক। জন্মলগ্ন থেকেই মাতৃভাষার মর্যাদা, গণতন্ত্র, আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠা
এবং সামরিক শাসন ও শোষণ-পীড়নের বিরুদ্ধে বাঙালির প্রতিটি সংগ্রামে এই দল পালন করেছে
পথিকৃৎ ও নেতৃত্বের ভূমিকা।
বিংশ
শতাব্দীতে বাঙালির সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের স্বাধীনতা। জাতির জনক
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবিস্মরণীয় নেতৃত্বে ১৯৭১-এ স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মহান
মুক্তিযুদ্ধের ভেতর দিয়ে বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ও স্বাধীন পরিচয়ে বাঙালি
জাতিসত্তার আত্মপ্রকাশ নিঃসন্দেহে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অনন্য ঐতিহাসিক অবদান। বঙ্গবন্ধুর
স্বপ্ন ছিল এক ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক, শোষণমুক্ত, উন্নত ও সমৃদ্ধশালী সোনার বাংলা
গড়ে তোলা। দুখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই ছিল তাঁর জীবনের ব্রত। এই লক্ষ্যে শুরু হয়
মুক্তিযুদ্ধোত্তর পুনর্গঠনের পালা। ধ্বংসস্তূপের ওপর নতুন জীবন গড়ে তোলার এই সংগ্রামেও
বঙ্গবন্ধুর গতিশীল নেতৃত্বে সমগ্র জাতি হয় ঐক্যবদ্ধ। প্রচণ্ড প্রতিকূলতার মধ্যে অত্যন্ত
অল্প সময়ে সাফল্যের সঙ্গে যুদ্ধের ক্ষত মুছে ফেলে বাংলাদেশ উঠে দাঁড়ায়। আর ঠিক সেই
মুহূর্তে, যখন স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পথে দেশ এগিয়ে চলতে
শুরু করেছে, ঠিক তখনি স্বাধীনতা-বিরোধী চক্র মরণ আঘাত হানে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাতের
অন্ধকারে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে বর্বরোচিতভাবে
হত্যা করা হয়। দেশের বুকে নেমে আসে ঘোর অমানিশা। মানবেতিহাসে যুক্ত হয় এক কলঙ্কজনক
অধ্যায়। দীর্ঘ ২১টি বছর জাতির বুকে চেপে বসে সামরিক-অসামরিক নানা পোশাকের হিংস্র স্বৈরশাসন।
যুগ-যুগের নির্মম শোষণ ও বঞ্চনার শিকার সাধারণ মানুষ তাদের ভোট ও ভাতের অধিকার হারায়।
অর্ধ-শতাব্দীর এক গৌরবময় সংগ্রামী ইতিহাসের অধিকারী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ গড়ে তোলে নতুন
সংগ্রাম। দীর্ঘ এই সংগ্রামের পথ বেয়েই জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৯৯৬ সালে দীর্ঘ
২১ বছরের স্বৈরশাসনের অবসান হয়। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে দেশবাসীর বীরত্বপূর্ণ সংগ্রাম
ও অগণিত শহীদের আত্মদানের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত হয় নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের
ন্যায়সংগত দাবি। জনগণ ফিরে পায় তাদের ভোটের অধিকার।”